প্রাথমিক সংগ্রামগুলো এখনো শেষ হয়নি—সলিমুল্লাহ খান

বিধান রিবেরু: বাংলায় বালাইষাট বলে একটা শব্দ আছে। তো আপনার ষাট বছরে বালাই বা বিপদ-আপদ কম দেখেননি, সেসব পেরিয়ে এসে আজ আপনার কি মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের ভাগ্যে সামনে কী অপেক্ষা করছে?

সলিমুল্লাহ খান: আমাদের দেশ ঐতিহাসিক কারণে পৃথিবীর এক প্রান্তের দেশ। পৃথিবীর কেন্দ্র যেদিন থেকে ইউরোপ হয়েছে, সেদিন থেকেই আমরা প্রান্ত হয়ে গেছি, ইউরোপ একসময় প্রান্ত ছিল। ইউরোপের সবচেয়ে বড় যেসব ঘটনার কথা মনে পড়ে, আমি মনে করি—সেগুলোর মধ্যে ফরাসি বিপ্লব একটি। ফরাসি বিপ্লবের সাথে আমি বাংলাদেশের ১৯৭১ সনের ঘটনার তুলনা করি। মানে তার সাফল্য ও ব্যর্থতা দুদিক দিয়েই। ফরাসি বিপ্লব প্রথমে ছিল গণতান্ত্রিক বিপ্লব। মানে একচেটিয়া রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের একটা ব্যাপক অংশের আত্মপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন, যেটা হেগেলের দর্শনে ‘মাস্টার অ্যান্ড স্লেভ’ বলা হয়। সেটার ঐতিহাসিক প্যারাডাইম বা মডেল হচ্ছে ফরাসি বিপ্লব। মাস্টার এবং স্লেভ অথবা প্রভূ এবং দাস তাদের সমন্ধ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

এখন ১৯৭১-কে যদি আমরা সেভাবে দেখি, ১৯৭১-এর সংগ্রামটি ফরাসি বিপ্লবের মতোই আশা আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেছিল। এর মধ্যে একটা বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল মানুষের মধ্যে সাম্য প্রতিষ্ঠা। ফরাসিদের মধ্যেও সাম্য ছিল। ওরা বলত স্বাধীনতা, সাম্য ও মৈত্রী। আর আমরা চেয়েছি সাম্য, মানুষের মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার। সেদিক থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ফরাসি বিপ্লবের মতোই ব্যর্থ। ব্যর্থ কেন তা বলি, আমরা দেশটা স্বাধীন করেছি, কিন্তু স্বাধীনতাটা করতে চেয়েছিলাম যেজন্য, দেশের জন্য, মানুষে মানুষে সাম্য থাকবে, সাম্প্রদায়িকতা থাকবে না, শ্রেণি-শোষণ থাকবে না, নারী পুরুষের বৈষম্য থাকবে না, সবকিছুর বিরুদ্ধে যত প্রকার বৈষম্য আছে, সবকিছুর বিরুদ্ধে আমরা বলি সাম্য, ফরাসিতে বলে ইগালিতে বা ইকুয়ালিটি। আমাদের এখানে মানুষের মর্যাদা কলোনিয়াল আমলের আগেও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সেটাকে আমরা প্রতিষ্ঠা করার জন্য বহুবার লড়াই করেছি, সাম্য আসেনি। এটাই হচ্ছে বালাই। আমি এটা দেখেছি। ১৯৭১-এ আমার বয়স ১৩ বছরে পড়েছে মাত্র, আপনি যে বালাইষাট বললেন, এরপর আমাদের স্বাধীনতার ৪৭ বছর পার হয়ে গেছে।  এখানে আমাদের প্রাথমিক সংগ্রামগুলো এখনো শেষ হয়নি—মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা এবং সাম্য প্রতিষ্ঠা। বরং যা হয়েছে এখন, যেটাকে অর্থনৈতিক উন্নতি বলছি, সেটা এক অর্থে  অর্থনৈতিক সূচকে দেখলে অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু তাতে সমাজের যে মৌলিক আকাঙ্ক্ষা, যেটাকে আমরা বলব মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা—ফরাসি বিপ্লবের সময় স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ছিল—সেটা বাস্তবায়িত  হয়নি। ইউরোপে যে ফরাসি বিপ্লব হয়েছিল এবং তার পরে ৪৭ বছর কী হয়েছিল, সেটা তুলনা করেই বলছি। কার্ল মার্কস যখন পিএইচডি করছিলেন, তখন ফরাসি বিপ্লবের ৪৭ বছর পার হয়েছে, বা আরেকটু বেশি।

রিবেরু: ফরাসি বিপ্লব বা পরে প্যারিস কমিউনের ব্যর্থতা নিয়ে মার্কস বিশ্লেষণ করেছেন, কিন্তু আমাদের ব্যর্থতা বিশ্লেষণ করার মতো তেমন কোনো লোক এখনো নেই।

খান: ফরাসি বিপ্লবের তারিখ যদি আমরা ধরি, ফরাসি বিপ্লব শুরু হয়েছিল ১৭৮৭ সালে। ৮৯-তে এর বিকাশ হয়েছিল।  নেপোলিয়ন ৯৯-তে ক্ষমতায় আসে, নেপোলিয়ন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে ১৮১৫-তে, এরপরে মার্কসের জন্ম। ফরাসি বিপ্লবের মাপে, শুধু বৈজ্ঞানিক মাপে বলছি না, মানসিক মাপে বিপ্লব ফরাসি ধনতন্ত্রের বিকাশ ঘটিয়েছে কিন্তু বিপ্লবের যে সুফল মানুষ চেয়েছিল—সাম্য—সেটা হয়নি। তো বাংলাদেশে কী হবে, তা আমি বলতে পারি না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যে আশা আকাঙ্ক্ষায় জাগ্রত করেছিল জনগণকে—সেটার মাত্র আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে। মানে বাংলাদেশ নামে একটি রাষ্ট্র হয়েছে, পতাকা হয়েছে, কিন্তু আমার কাছে খুব অবাক লাগে বিশ্বজনীন পরিস্থিতির কারণে, ফরাসি দেশে ফরাসি ভাষা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল, আমরা বাংলাভাষাকে জীবনের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। সবচেয়ে উচ্চস্তরে প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। এটাই ১৯৭১-এর প্যারাডক্স। আপনার ষাটের বালাই বলতে আমার যেটা মনে হয়, সেটা হলো এটাই। আমাদের জীবনকালে যদি আমরা বাংলাভাষার প্রতিষ্ঠা দেখে যেতে পারি—তাহলে সেটা আমার কাছে শান্তি লাগবে।

রিবেরু: রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন নির্ভর করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর—আদালতে বাংলার ব্যবহার বা শিক্ষার মাধ্যম কী হবে ইত্যাদি। কিন্তু আমি যদি জনগণের দিকে তাকাই দেখি তাদেরও সঙ্কট আছে। রাস্তাঘাটে সাইনবোর্ড প্রায় সবই ইংরেজিতে লেখা। প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের নামই ইংরেজিতে। এমনকি বাচ্চাদের নামেও খুব একটা বাংলা দেখা যায় না। বাংলা নাম রাখা হলে বলা হয় এটা হিন্দুদের নাম। সাধারণ মানুষের ভেতরেই ভাষা নিয়ে এরকম একটা মানসিকতা কিন্তু আছে।

খান: এটা দুরকম। দুই জায়গা থেকে দেখতে হবে। ১৯৭১-এ আমরা যে রাষ্ট্রভাষা পেলাম, সেটার পেছনে যদি যাই, অন্তত ২৩ বছর আগের কথা। ১৯৪৭ সনে ব্রিটেনের শাসন থেকে ভারত আলাদা হচ্ছে, এটা একট সূচনা। এল নতুন রাষ্ট্র। তখন একটা প্রশ্ন উঠল, নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে? সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভাষা কী হবে? আমরা যেহেতু পাকিস্তানের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলাম, যুক্তিসঙ্গত কারণেই বাংলাই হওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রভাষা। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের যুক্তি দিয়েও যদি আসে, তাহলেও বাংলাভাষার বিরুদ্ধে যায় না। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান বাংলাভাষায় কথা বলে। তখন কথা হলো, সারা ভারতবর্ষের মধ্যে মুসলমানদের মধ্যে লিঙ্গুয়াফ্রাঙ্কা হচ্ছে উর্দু, এই যুক্তি দিয়ে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, পাকিস্তান হওয়ার আগেই, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা তাই উর্দুই হবে। তখন আমাদের এখান থেকে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্রস্তাব করেছিলেন যে এটা সঠিক নয়, বাংলাই হবে বাঙালির রাষ্ট্রভাষা। এই হলো একটা পর্ব। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ নিয়ে তর্কের কোনো কথা ছিল না।

বাংলায় নামকরণের বিষয়টির আগে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সর্বস্তরে বাংলা ব্যবহার। আমরা শব্দ ইংরেজি থেকেও ধার করি, আবার আরবি থেকেও শব্দ ধার করি, কিন্তু সেটা বাংলা হরফে লিখতে হবে। সমস্যা হচ্ছে এটাই। কাজেই মানুষের ছেলেমেয়েদের নাম বাংলায় হবে, না আরবিতে হবে সেটা আলাদা তর্ক। যে নামই বাবা-মা দিন না কেন, সেই নামটা বাংলায় লেখা হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম বাংলায় লেখা হবে। আমি নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, পাকিস্তান আমলে ২১ ফেব্রুয়ারির সময়  আমরা ব্যবসায়ীদের বাধ্য করতাম সাইনবোর্ড বাংলায় লিখতে। তখন যে জাতীয়তাবোধ থেকে এটা হয়েছিল, সেটা বাংলাদেশ থেকে উবে গেল কেন? এর কারণটা যদি বলি, তো বলতে হয়—মাছের মাথা থেকে পচন শুরু হয়। আমাদের উচ্চশ্রেণির মনে যে অভিজ্ঞতা, তাদের মনে যে আকাঙ্ক্ষা, এখন সেটা বাংলা ছাড়িয়ে উর্দুর দিকে যাচ্ছে না, আরবির দিকেও যাচ্ছে না, ইংরেজির দিকে যাচ্ছে।  এটা মনে রাখা দরকার। এর পক্ষে একটা যুক্তি যে ইংরেজি আগে থেকেই ঔপনিবেশিক ভাষা ছিল। আবার দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর ক্ষমতার যে নতুন বিন্যাস হয় পৃথিবীতে, সেখানে ইংরেজিই প্রধান ভাষা হয়েছে। সেটাই হচ্ছে প্রধান কারণ।

আমার বক্তব্য হলো বাংলাদেশে ইংরেজি শেখা বা বাংলা শেখা পরস্পর বিরোধী নয়। বাংলাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে ইংরেজি শেখালে সেটার বিরোধিতা কেউ করবে না। কিন্তু বাংলাকে স্থানচ্যুত করে ইংরেজি করাটা বিপদজনক। আর যে কথাটা আমি শেষে বলেছিলাম মুসলমানদের ক্ষেত্রে—তারা মনে করে আরবি ভাষায় নাম না দিলে সে নামটা যথেষ্ট ধর্মসম্মত হচ্ছে না। সেটা ধর্মীয় রীতি। যেমন যারা খ্রিষ্টান ধর্মে জন্মগ্রহণ করেছে—তারাও তাদের নামের একটা অংশ ইংরেজিতে দেয়।

রিবেরু: সেইন্টের নাম দেয়।

খান: হ্যাঁ সেটা দেয়।… বাংলাদেশে আমার অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, আমি পাকিস্তান আমলেও বেড়ে উঠেছি, এখনও বেড়ে উঠছি, এই দুয়ের মাঝে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে যে, যারা বাংলাদেশে ক্ষমতা পেয়েছেন—তারা সোজা কথায় তাদের শ্রেণিস্বার্থে ইংরেজি ব্যবহার করাকে বেশি দরকার মনে করছে। সেজন্য তারা তাদের বাচ্চাদের স্কুল, কলেজ সবজায়গাতে ইংরেজি ব্যবহার করছে। এটা আমার কাছে বিস্ময়কর। যদি আমি খুব বেশি সেন্টিমেনটালি বলি, এটা আমার কাছে বিশ্বাসঘাতকতা মনে হয়।

রিবেরু: কেউ যদি চায়ও তার সন্তানকে ভালো বাংলা মিডিয়ামে পড়াবে সে সুযোগও খুব কম। কারণ পরিকাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে—সবগুলো ভালো স্কুলই এখন ইংরেজি মাধ্যমে পড়াচ্ছে।

খান: পাকিস্তান আমলে একটা লক্ষ্য ছিল, আন্দোলন ছিল, জাতীয় শত্রু ছিল, যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারতেন। এখন মজার বিষয় হয়েছে কী, এখন কোনো শত্রু নেই। আপনি কার বিরুদ্ধে লড়বেন? অর্থাত্ এখন ইংরেজির পক্ষে ওকালতি করছেন, তিন বছরের বাচ্চাকে কিন্ডার গার্টেন, প্লে ওয়ান, প্লে টুতে ইংরেজিতে পড়াচ্ছেন, তারা তো চামড়ায় বাঙালি, ওইজন্য তার বিরুদ্ধে আপনি আন্দোলন করতে পারবেন না। এটা কিন্তু একটা শ্রেণি সংঘাতের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আবার যারা এখানে পেটি বুর্জোয়া মধ্যবিত্ত আছে, তারাও গোপনে গোপনে উচ্চ শ্রেণিকে অনুকরণ করাকে শ্রেয় মনে করে। এটা একটা বিশেষ পরিস্থিতি, যাকে ট্র্যাজিক পরিস্থিতি বলা যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে নতুন ট্র্যাজেডিতে আমরা পড়েছি, সেটা হচ্ছে—বাংলাভাষা শুধু এখানে নয়, পশ্চিমবঙ্গেও চলে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে হিন্দির আগ্রাসন আছে, এখানেও উর্দুর আগ্রাসন ছিল। আমরা মনে করেছিলাম একটা সীমান্ত থাকলে আমরা বোধহয় হিন্দির আগ্রাসন থেকে বাঁচতে পারব, সেটাও আমরা পারছি না। ফলে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ হলো—যেহেতু আমি অল্প লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকি, বাংলাভাষায় দুচার লাইন লেখার চেষ্টা করে থাকি, আমার কাছে এটা বিশেষভাবে বেদনাদায়ক হয়ে বাজে যে—বাংলাদেশে বাংলাভাষা তার সমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

রিবেরু: এটার জন্য কি শুধু শাসকগোষ্ঠী, এলিট গোষ্ঠী, নাকি গোটা  জাতি দায়ী?

খান: আমি এখানে একটু নির্দয় হয়ে বলব, মানে পেছনে ফিরে তাকাতে হবে আর কি, কার্ল মার্কস এবং ফ্রেডেরিক এঙ্গেলস কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহারে যে বাক্যটা জগদ্বিখ্যাত করে গেছেন—আজ পর্যন্ত যত সমাজ দেখা গেছে তাদের সকলের ইতিহাস হচ্ছে শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস। তার মানেটা কী? তার নির্গলিত অর্থ হচ্ছে—সমাজে যে পরিবর্তন হয়, তার নেতৃত্ব থাকে একটা না একটা শ্রেণিতে। গোটা জাতিকে ধরলে আমরা এক ইঞ্চিও আগাতে পারব না। কাউকে গালি দেওয়ার জন্য নয়, বিশ্লেষণের খাতিরে বলব, এই সমাজের কর্ণধার যে শ্রেণি, তা শুধু রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী নয়, কর্নধার শ্রেণি বলে একটা কিছু আছে, যাকে আমরা সিভিল সোসাইটি বলি, সেই গোটা শ্রেণি ইংরেজিমুখি হয়েছে। গোটা শ্রেণির শতকরা ১০০ জন না হোক, শতকরা ৯৯ জন ওই পথে গিয়েছে। এটাই সমাজকে নিয়ে গেছে ওই পথে। আমি এটাকে বলি—কান টানলে মাথা আসে। শাসক শ্রেণি যেদিকে যায়, সারাদেশ সেদিকে যাবে। আজকে বড়লোকেরা যা করে গ্রামের লোকেরা তা অনুসরণ করে। এখন এদের মধ্যে যে জাতীয় চেতনা দরকার—সেটা একেবারেই নেই। যে শ্রেণি নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের মধ্যে যদি জাতীয় চেতনা না আসে, তাহলে অন্যদের মধ্যেও আসবে না। এখন সত্যি কথা বলি, ৫২-তে ছাত্ররা প্রাণ দিয়েছে বাংলা ভাষার জন্যে, তখন বাঙালিদের মধ্যে উদীয়মান মধ্যবিত্ত শ্রেণি, যারা এখন শাসক শ্রেণিতে পরিণত হয়েছে। তারা যদি ওই আন্দোলন সমর্থন না করত, তাহলে গ্রামের কৃষকেরা একা একা আন্দোলন সফল হতে পারতেন না।
ইত্তেফাক, ১৭ আগস্ট ২০১৮

Leave a Reply