এসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র অথবা খেলাফত আন্দোলনের করুণ পরিণতি

রাজনীতির সহিত ধর্ম মিশাইলে কি পদার্থ তৈয়ার হইতে পারে তাহার খানিক উদাহরণ খেলাফত আন্দোলন। ১৯১৭ সনে প্রশ্ন উঠিয়াছিল: ভারতীয় মুসলমান আগে মুসলমান, না আগে ভারতীয়? এই মূঢ়তার উত্তর ইতিহাসে ভাল করিয়াই মিলিতেছে। তথাপি হালফিল বাংলাদেশেও একই ধরনের প্রশ্ন হইতে নিস্তার নাই

যে রাষ্ট্র আপনার প্রাণ আপনি বাঁচাইতে পারে না সে রাষ্ট্র শতচ্ছিন্ন হইয়া যায়। — ফিদেল কাস্ত্রো (২০০৮: ৫৪২)

‘হেফজতে ইসলাম’ আন্দোলনের আবির্ভাবে আনন্দিত হইয়া কোন কোন বুদ্ধিজীবী বলিতেছেন, এই আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা নতুন মাত্রা যোগ করিয়াছে। কথিত আছে মহাত্মা মোহনদাস গান্ধিকে একবার সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, ‘পাশ্চাত্য সভ্যতা সমন্ধে আপনার মত কি?’ জবাবে গান্ধিজি বলিয়াছিলেন, ‘হইলে ভাল হইত।’ বুদ্ধিজীবীদের বাহবা শুনিয়া আমারও এই রকম মনে হইল, ‘হইলে ভাল হইত।’

‘নতুন বোতলে পুরানা মদ’ কথাটা ইহার ভিতর আবার পুরান হইয়া গিয়াছে। তাই উহা ব্যবহার করিব না। শুদ্ধ বলিব এমনকি বোতলটাও নতুন নহে। রাজনীতির সহিত ধর্মের মিশ্রণ এই দেশের ইতিহাসেও নতুন নহে। তাহার ফলাফল ভালর মধ্যে অসার, আর মন্দের মধ্যে বিষময় হইয়া উঠে। পুরানা ‘খেলাফত’ আন্দোলনের সহিত নতুন ‘হেফাজত’ আন্দোলনের তুলনা করিলে অনেকে হয়তো হাসিয়া উড়াইয়া দিবেন। আমি ধৈর্যের আবেদন পেশ করিব।

১৯১৪ সনে এয়ুরোপ মহাদেশে যে যুদ্ধ শুরু হইয়াছিল তাহাকে আমরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বলিয়া জানি। এই যুদ্ধের একপক্ষে ইংলন্ড, আরপক্ষে জার্মানি। যুদ্ধ শুরু হইবার পর তুরস্ক কিছুদিন কোন পক্ষ লয় নাই। ভারতবর্ষস্থ ইংরেজ সরকারের অনুরোধে ভারতীয় মুসলমান জনগোষ্ঠীর দুই নেতা মৌলানা মোহাম্মদ আলী ও ডাক্তার আনসারি তুর্কি নেতাদের কাছে তারবার্তা পাঠাইলেন। অনুরোধ করিলেন তাহারা যেন নিরপেক্ষ থাকেন। কিন্তু তুরস্ক তাঁহাদের কথা রাখিল না। দেশটি যুদ্ধ ঘোষণা করিল ইংলন্ডের বিরুদ্ধে। মোহাম্মদ আলী ‘তুর্কজাতির পছন্দ’ বলিয়া এক প্রবন্ধ ফাঁদিলেন। সিদ্ধান্ত করিলেন ভারতবর্ষের মুসলমান জনসাধারণ ইংরেজ সরকারের আজ্ঞাই বহন করিবেন। মাত্র দুইটি শর্ত যোগ করিয়া বলিলেন, আরবদেশে কোন হামলা করা চলিবে না আর এসলামের তিন পবিত্র তীর্থ — মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেম — সত্যকার স্বাধীন কোন মুসলমান রাজশক্তির হাত হইতে ছিনাইয়া লওয়া হইবে না।

এই ধরনের শর্ত আরোপ করাটাও বিলায়েতি সরকারের পছন্দ হয় নাই। তাহারা শওকাত আলী, মোহাম্মদ আলী, আবুল কালাম আজাদ, জাফর আলী খান প্রভৃতি মুসলমান নেতাকে কয়েদ করিলেন। তাঁহাদের পত্রপত্রিকাও বন্ধ করিয়া দিলেন। তবে ব্রিটিশ রাষ্ট্রনায়কেরা কথা দিলেন মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলি — আরবদের তীর্থস্থান তো বটেই এমনকি এরাকের দরগাহ ইত্যাদিও — রক্ষা পাইবে। ইহাতেই মুসলমান জনমত ঠাণ্ডা হইল।

এই আন্দোলনের কালে ভারতের মুসলমান সমাজ ধীরে ধীরে হিন্দু সমাজের সহিতও মিত্রতার সূত্রপাত করিল। মুসলিম লীগের আদি উদ্যোক্তা আগা খান লীগ ছাড়িলেন ১৯১২ সালে। তিনি তথাকথিত ‘প্যান-এসলাম’ পথিকদের সহিতে পারিতেছিলেন না। ১৯১৩ সালে ঢাকার নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ মরিলেন। আর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগে যোগ হইলেন। এই যুগেই শ্রীমতি সরোজিনী নাইড়– জিন্নাহ সাহেবকে ‘হিন্দু-মুসলমান মিলনের বার্তাবাহক’ উপাধি দিয়াছিলেন। ১৯১৬ সালে লক্ষেèৗ শহরে লীগ-কংগ্রেস সমঝোতা হইয়াছিল এই সৌহার্দ্যরে আবেশেই। আর ঐদিকে ১৯১৬ সালে ইংরেজ জাতির সহিত মৈত্রী করিয়া তুর্কি মুসলমান সম্রাটের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঝাণ্ডা উড়াইয়া দিল আরব মুসলমানদের নেতা শরিফ হোসেন। ভারতীয় মুসলমানরা মহা ফাঁপরে পড়িলেন। আরব বিদ্রোহের ফল দাঁড়াইল তুর্কিদের পরাজয়। ১৯১৮ সালের শেষ নাগাদ তুরস্ক আত্মসমর্পণ করিলে বিজয়ী ইংরেজরা ওসমানিয়া সাম্রাজ্যের রাজধানী ইস্তাম্বুলে ঢুকিয়া পড়িল। তুর্কি সুলতান ইংরেজদের হাতে বন্দি হইলেন। তুরস্কের জন্য শত টুকরায় ভাগ হইবার বিপদ দেখা দিল।

ইহার মধ্যে রাশিয়ায় বিপ্লব হওয়ার ফলে আগেই জানা হইয়াছে কিভাবে যুদ্ধ শেষ হইবার আগেই ইংরেজ আর ফরাশি জাতির কূটনীতিকেরা ওসমানিয়া সাম্রাজ্যের অধীনস্ত নানান দেশ ও প্রদেশ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করিয়া লইবে। ভারতীয় মুসলমানরা বুঝিতে শুরু করিলেন, কি আরব কি তুর্কি কেহই তাহাদের কথা শোনে নাই। আর ইংরেজ সরকারই বা শুনিবেন কেন?

তাহারা স্থির করিলেন স্বদেশের জাতি ভাই হিন্দুদের সহিত হাত মিলাইবেন। নহিলে ইংরেজকে দুইটি কথা শুনাইবেন সেই শক্তিও তাঁহাদের হাতে থাকিবে না। ১৯১৯ সালের মধ্যভাগ নাগাদ তাঁহারা ‘খেলাফত সম্মেলন’ নামে একটি আন্দোলন রচনা করিলেন। আর বুদ্ধির কি বাহার! ১৯১৯ সালের নবেম্বর নাগাদ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত খেলাফত সম্মেলনের মহাসমাবেশে সভাপতির আসনে বসাইলেন অমুসলমান মহাত্মা গান্ধিকে। রাউলাট আইন নামে কুখ্যাত কিছু আইন ইংরেজ সরকার যুদ্ধের সময় প্রবর্তন করিয়াছিলেন। যুদ্ধের পরও সেইগুলি চালু রাখার চেষ্টা করিতেছিলেন তাঁহারা। হিন্দু ও মুসলমান উভয় জনগোষ্ঠীর নেতারা এই সময় এই আইনগুলিকে উপলক্ষ করিয়া একত্র হইলেন।

ইতিহাসে এই যুগটাকে অসহযোগ আন্দোলনের যুগ বলা হয়। ১৯২২ সালের ফেব্র“য়ারি মাসে মহাত্মা গান্ধি হঠাৎ করিয়া এই আন্দোলন বন্ধ করিয়া দিয়াছিলেন। ইহার সঙ্গত কারণ ছিল। বিহারে চৌরিচৌরা নামক এক গ্রামে গ্রামবাসীদের সহিত দাঙ্গায় ১৭ জন পুলিশ ও ১৭২ জন চাষী মারা গিয়াছিল। গান্ধিজি ক্ষেপিয়া গেলেন। আন্দোলন হইতে তিনি সরিয়া দাঁড়াইলে জবাহরলাল নেহরু প্রভৃতি নেতাও মনে প্রচুর ব্যথা পাইয়াছিলেন।

হিন্দু-মুসলমান মৈত্রীর মধুচন্দ্রিমাও মনে হইতেছে এই সময় শেষ হইয়া গেল। মৌলানা মোহাম্মদ আলী কয়েদ হইলেন। বছর খানিক পর কারামুক্ত হইয়া তিনিও হিন্দু ও মুসলমান সমস্যা লইয়া ব্যস্ত হইতে শুরু করিলেন।

ধর্মের সহিত রাজনীতি কিছু পরিমাণে সবসময়েই মিশিয়া থাকে। ইহাতে সন্দেহ নাই। কিন্তু রাজনীতির সহিত ধর্ম মিশাইলে কি পদার্থ তৈরি হইতে পারে তাহার উদাহরণ খেলাফত আন্দোলন হইতে খানিক পাওয়া যাইবে। এই সময় আমরা দেখিতেছি সেই মিশ্রণের বিষময় ফল ফলিতে শুরু করিল। ভারতীয় মুসলমানদের উপর প্রশ্নটা তখন কেহ চাপাইয়া দিয়াছিল কিনা জানি না, কিন্তু প্রশ্নটা কিভাবে জানি উঠিয়া দাঁড়াইল। ১৯১৭ সনের  ডিসেম্বর মাসে মুসলিম লীগের এক অধিবেশনে বা বৈঠকে প্রশ্ন উঠান হইল — ভারতীয় মুসলমান কি আগে মুসলমান, না আগে ভারতীয়?

হালফিল বাংলাদেশে আসিয়াও আমরা একই ধরনের প্রশ্নের হাত হইতে ছাড়া পাইতেছি না। বাংলাদেশের মুসলমান জনগোষ্ঠীর লোকজন কি আগে মুসলমান পরে বাঙ্গালি, নাকি আগে বাঙ্গালি পরে মুসলমান? এই মূঢ়তার উত্তর ভারতীয় মুসলমানের ইতিহাসে ভাল করিয়াই মিলিতেছে। কিন্তু সাধু কেন মূঢ়তার কাহিনী শুনিবেন?

ধরিয়া লওয়া হইয়াছিল এসলামধর্মে রাজনীতি হইতে ধর্মকে আলাদা করিবার বিধান নাই। আরো ধরিয়া লওয়া হয় এসলাম যদি রাজনীতিতে অংশগ্রহণকে ফরজ বা অবশ্য পালনীয় কর্তব্য বলিয়া নির্দেশ না দেয় তো মুসলমানরা দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনেও শরিক হইবে না। এই দুই অনুমানের উপর ভর করিয়া উলেমা অর্থাৎ ধর্মবিদদের রাজনীতিতে টানিয়া আনা হইয়াছিল। রাষ্ট্র আন্দোলন বা রাজনীতিতে বৈধতা পাইবার জন্য ধর্মীয় রায় বা ফতোয়া দেওয়া শুরু  হইল।

সকলেই জানেন ভারতের জাতীয় কংগ্রেস দলের এক প্রস্তাববলে ইংরেজ সরকারের সহিত অসহযোগিতার সিদ্ধান্ত পাশ হয়। অসহযোগ আন্দোলনের এই প্রস্তাবকে শক্তিশালী করার জন্য ‘জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দ’ বা ভারতীয় উলেমা সমিতির ‘ফতোয়া’ গ্রহণ করা হয়। ১৯২১ সালের জুলাই মাসে মৌলানা মোহাম্মদ আলী একটি প্রস্তাব তুলিলেন আর নিখিল ভারত খেলাফত সম্মেলনে তাহা পাশও হইল। প্রস্তাবে বলা হইল:

বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন মুসলমান যদি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে চাকুরিরত থাকেন তবে তাহাকে চাকুরি ছাড়িতে হইবে, সেনাবাহিনীতে নতুন করিয়া কোন মুসলমান ঢুকিতে পারিবেন না, বা কাহাকেও ঢুকিতে সাহায্য করিবেন না। করিলে তাহা যে কোন বিচারেই  ধর্র্র্মীয় দৃষ্টিতে অবৈধ বা হারাম হইবে। তাহা ছাড়া এই সকল ধর্ম নির্দেশিত আজ্ঞা সেনাবাহিনীতে চাকুরিরত সকল মুসলমানের বাটিতে পৌঁছাইয়াছে কিনা তাহার তদারক করা সাধারণ বিচারে সকল মুসলমানের আর বিশেষ বিচারে উলেমার উপর ফরজ বলিয়া বিবেচিত হইবে।

এই সম্মেলন (জুলাই ১৯২১) আরো একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছিল যাহা শুনিলে এখনকার শিশুরাও কৌতুকবোধ করিবে। সিদ্ধান্ত হইয়াছিল ব্রিটেন যদি তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে তবে ভারতবর্ষের মুসলমানরা ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ঘোষণা করিবে আর কংগ্রেসের পরবর্র্তী অধিবেশনে স্বাধীন ভারত প্রজাতন্ত্রের পতাকা উড়াইয়া দিবে।

গান্ধিজি যখন ১৯২২ সালের ফেব্র“য়ারি মাসে অসহযোগ আন্দোলনটা স্থগিত করিলেন তখন ঐ আন্দোলনে যাঁহারা প্রাণ বাজি রাখিয়াছিলেন তাঁহারা ভাল একটা চাপড় খাইলেন আর মুসলমানরা হইলেন দিশাহারা। তাঁহারা তো কোন প্রকার কিন্তু না রাখিয়া জবান দিয়াছিলেন, ধর্মীয় কর্তব্য হিশাবে গ্রহণ করিয়াছিলেন একটা প্রস্তাবকে। এখন কোন ধর্মীয় অছিলায় সেই কর্তব্য হইতে বিরত হইবেন? নেতাদের এই অবিমৃষ্যকারিতাই প্রমাণ করিল তাঁহারা ভ্রান্ত। তাঁহারা কোথায় আর পৃথিবী কোথায়?

ইংরেজ সরকার কর্তৃক ১৯১৯ সনের আইনবলে গঠিত পরিষদ বা কাউন্সিলে যোগদান না করা ঠিক হইবে কিনা — এই প্রশ্ন লইয়া কংগ্রেস ও খেলাফত কমিটি আমতা আমতা আলোচনা করিল। কিন্তু ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’ ঘোষণা করিল ১৯২০ সালের ফতোয়া মোতাবেক চলিতেই হইবে।

ভারতীয় মুসলমানরা যে ধরনের ধর্মীয় আবেগ অনুভূতি দিয়া কাজে নামিয়াছিলেন, আরব মুসলমান ও তুর্কি মুসলমানরাও সেই একই আবেগ অনুভূতি দ্বারা পরিচালিত হইতেন। ইহা ধরিয়া লওয়ার ফলে ভয়ানক এক বিব্রতকর পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়। ভারতীয় মুসলমানদের কথা না ভাবিয়া, তাঁহাদের আবেগ অনুভূতির তোয়াক্কা না করিয়াই আরবরা তুর্কিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। তখন ১৯১৬ সাল। আর ১৯২৪ সালে তুর্কিরা খোদ খেলাফত নামক প্রতিষ্ঠানটিই বিলুপ্ত করিয়া দেয়।

রাজনীতির সহিত ধর্ম মিশাইবার ফল এমনই কর”ণ হয়। এই মূঢ়তাকে যদি আপনার প্রহসন বলিতে চাহেন বলিতে পারেন। ইহার তুলনায় আগের ঘটনাটিকে হয়তো ট্রাজেডি বলা চলিবে। আজ সময়াভাবে তার উল্লেখ মাত্র করিয়া ক্ষান্ত হইব।

প্রস্তাব পাশ করিয়া খেলাফত আন্দোলন শুরু হইবার আগে সিন্ধু, পাঞ্জাব ও উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের প্রায় ১৮,০০০ মুসলমান তাহাদের সহায় সম্বল যাহা ছিল সব বিক্রয় করিয়া শত্র“ কবলিত ভারতবর্ষ হইতে হিজরত করিয়াছিলেন পাশের মুসলমান শাসিত দেশ আফগানিস্তানে। তাঁহারাও অনুপ্রাণিত হইয়াছিলেন একটি ধর্মীয় আদেশ বা ফতোয়ার আলোকে। দুর্ভাগ্যের মধ্যে, সরলপ্রাণ এই শরণার্থী বা মোহাজের মুসলমানরা যখন আফগান সীমান্তে পারি দিলেন তখন এসলামের দেশ তাঁহাদিগকে প্রবেশ করিতে দিল না। তাহারা বহু কষ্টে, দীনহীন অবস্থায়, নিজ নিজ গ্রামে প্রাণ লইয়া ফিরিতে পারিয়াছিলেন বটে। খেলাফত আন্দোলনের নেতারা যে মাঝে মধ্যে তাঁহাদের খোঁজখবর লইয়াছিলেন তাহার প্রমাণ অবশ্য আছে।

তাই ভাবিতেছিলাম ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মানুভূতিতে আঘাতপ্রাপ্ত হইয়াছেন বলিয়া যে হেফাজত নেতারা প্রচার করিতেছেন তাহারা কি জানেন না যে ইতিহাসে একই ঘটনা ও চরিত্র অন্তত দুইবার ঘটিয়া থাকে? আর প্রথমবার যাহা ঘটে তাহাকে যদি বা ট্রাজেডি বলি তো দ্বিতীয়বারকে প্রহসন বৈ বলা যায় না?

১১ এপ্রিল ২০১২

দোহাই

Fidel Castro, My Life, ed. Ignacio Ramonet, trans. Andrew Husley (London: Penguin Books, 2008).
Mohammad Mujeeb, The Indian Muslims (London: George Allen and Unwin, 1967).
Saiyid Athar Abbas Rizvi, Landmarks of South Asian Civilizations (New Delhi: unshiran Manoharlal, 1983).

 

১২ এপ্রিল ২০১৩, সর্বজন: নবপর্যায় ৪

Leave a Reply