যুদ্ধাপরাধবিরোধী জাতীয় আন্দোলনের গতি ও প্রগতি

শাহবাগের যুদ্ধাপরাধবিরোধী সমাবেশের বার দিন পার হইয়াছে। মাঝখানে দুই শুক্রবার সমাবেশ পরিণত হইয়াছিল মহাসমাবেশে। এই সমাবেশ যে জনসমর্থন লাভ করিয়াছে তাহাতে সন্দেহ নাই। কিন্তু সত্য কথা বলিতে এই আন্দোলন এখনো সারাদেশে, বিশেষ করিয়া গ্রামেগঞ্জে ছড়াইয়া পড়ে নাই। কেন পড়ে নাই তাহাও ভাবিবার বিষয়।
এই আন্দোলনকে কি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সহিত তুলনা করা যাইবে? এখনো পর্যন্ত আন্দোলন মোটের উপর শান্তিপূর্ণই আছে। দুইদিন আগে সমাবেশের সহিত জড়িত একজন তরুণ নেতাকে তাঁহার বাসস্থানের কাছে, মিরপুরের পলাশনগর পাড়ায়, হত্যা করা হইয়াছে। এই হত্যাকে নৃশংস বলাই শেষ কথা নহে।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরিবেশ ছিল পরাধীনতার বিরুদ্ধে পরিচালিত জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন। বর্তমান আন্দোলনও এক অর্থে একই ধরনের জাতীয় গণতান্ত্রিক চরিত্র অর্জন করিতে পারে। কিন্তু পথে কিছু বাধা দেখা যাইতেছে।
এখন পর্যন্ত আন্দোলনের প্রধান দাবি একটিই — যুদ্ধাপরাধীচক্রের ন্যায্য বিচার ও উপযুক্ত শাস্তি। কেহ কেহ ইহার সহিত নতুন নতুন দাবিদাওয়া যোগ করিবার পরামর্শ দিয়াছেন। যথা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। ইহারা তো তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি করিবার পরামর্শ পর্যন্ত দিতেছেন। কিন্তু শাহবাগের তরুণ আন্দোলন এখনো যুদ্ধাপরাধ বিচার ও তাহার সংশ্লিষ্ট দাবিতেই অটল।

অন্যদিকে শেখ হাসিনার সরকার আন্দোলনকারীদের সহিত সামান্য একমত হইয়াছেন। কিছু আইন পরিবর্তনও করিতেছেন। এমতাবস্থায় কেহ কেহ প্রশ্ন করিতেছেন: এখন আন্দোলন কোন পথে যাইবে? সরকার কি এখন আন্দোলনকারীদের ঘরে ফিরিয়া যাইতে বলিবেন? না আন্দোলন ভিন্ন দাবিও তুলিবে? একদিন সিদ্ধান্ত হইয়াছিল আন্দোলনের সমাবেশ দৈনিক তিনটা-দশটার মধ্যে আবদ্ধ থাকিবে। কিন্তু ঘটনা ঘটিয়াই চলিয়াছে। সিদ্ধান্ত বদলাইয়াছে।
এখন পর্যন্ত যাহা দেখা যাইতেছে তাহাতে মনে হয় আন্দোলনে যাঁহারা আসিতেছেন তাঁহারা বিপুল সংখ্যায় শহরের মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির ছাত্র যুবক ও পেশাদার তরুণ। ইহাতে গতি সঞ্চার করিতে হইলে অবশ্যই আরো বড় বড় সংখ্যায় দেশের সাধারণ মানুষকে জাগাইতে হইবে। অথচ আজ পর্যন্ত শহরের শ্রমিকশ্রেণিও এই আন্দোলনে বড় সংখ্যায় শামিল হয় নাই। ১৯৬৯ সালের নাহান গ্রামে গ্রামে কৃষক ও ক্ষেতমজুর শ্রেণির জনগণ জাগিয়া উঠে নাই। কেন জাগে নাই সেই প্রশ্ন না তুলিয়াও রেহাই পাওয়া যাইবে না।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করিয়া একটা ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক’ ঐকমত্য গড়িয়া উঠিবার লক্ষণ দেখা দিয়াছে। এই লক্ষণ প্রজাতন্ত্র বা গণতন্ত্রের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান না ঘটিলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যে ‘মহাসিন্ধুর কল্লোল’ শুনাইয়াছিল তাহা কি শুনা যাইত? মনে রাখিতে হইবে জাতীয় গণতান্ত্রিক ঐকমত্য ছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা কঠিন।
শ্রমিকশ্রেণির জনগণ কেন এই আন্দোলনে শামিল হইবেন? দুই কারণে হইবেন। একটা কারণকে ‘জাতীয়’ বলা যাইতে পারে। অপরটাকে বলা যায় ‘গণতান্ত্রিক’ বা ‘প্রজাতান্ত্রিক’। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশে নতুন জাতি গঠনের সম্ভাবনা তুলিয়া ধরিয়াছিল। নানান কারণে ১৯৭১ বাংলাদেশে ‘গণতান্ত্রিক বিপ্লব’কে সম্ভব করিয়া তুলিতে সক্ষম হয় নাই। সেই কাজ, সেই কর্তব্য আজও জারি আছে।
এই বছরের আন্দোলনের ‘ফাঁসি চাই’ চিৎকারের মধ্যে সেই ‘অসমাপ্ত’ অথবা ‘বেহাত’ জাতীয় বিপ্লবের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষাই মূর্তি পাইয়াছে। কিন্তু ‘ফাঁসি চাই’ বলিলেই ফাঁসি হইবে না। আরো গলা খাকারি দিয়া কেহ কেহ বলিয়াছেন — যেমন আমার বন্ধু সেলিম রেজা নিউটন — ফাঁসিটাসি হইয়া গেলেও জনগণ দেখিবেন তাঁহাদেরই গলায় ফাঁস আটকাইয়াছে।
তাহা হইলে আমরা কি করিব? ইতিমধ্যেই দাবি উঠিয়াছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালকে স্থায়ী করিতে হইবে। তরুণেরা নিশ্চয় জানেন ১৯৪৫ সালের পর এয়ুরোপ ও জাপানে সংগঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালকে স্থায়ী রূপ দিবার একটা দাবি কিন্তু উঠিয়াছিল। পাশ্চাত্য জগৎ বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাহা সমর্থন করে নাই। তখন তাঁহারাই নতুন নতুন যুদ্ধাপরাধের সহিত জড়িত হইতেছিলেন। ভিয়েতনাম ও লাওস তাহার নিকৃষ্টতম উদাহরণ ছিল । সেই অপরাধ কি এখনো শেষ হইয়াছে? ইরাক বা আফগানিস্তান এখনো যুদ্ধে লিপ্ত।
আশা করি আমাদের তরুণেরা এই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ বিষয়েও উক্তি করিবেন। হইয়া উঠিবেন শুদ্ধ জাতীয় কেন. সত্যকার অর্থে আন্তর্জাতিক ‘ব্যক্তি’। না হইয়া উপায় নাই।

১৯৬৭ সালে মহাত্মা জাঁ পল সার্ত্র ও বার্ট্রান্ড রাসেল প্রমুখ মনীষী যখন ভিয়েতনামে মার্কিন যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে বিশেষ ‘ট্রাইবুনাল’ গঠন করিলেন তখন তাঁহাদের প্রতীকী বিচারসভা বসাইবার অনুমতি পর্যন্ত দেয় নাই তদানীন্তন ফরাশি সরকার। কারণের মধ্যে খোদ ফরাশিদেশের যুদ্ধাপরাধও কম ছিল না। তাঁহারা কি করিয়া বিচারে সম্মতি দিবেন? অবশেষে বিচারসভা বসিয়াছিল সুইডেনের রাজধানী স্টকহোল্ম নগরে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যে যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত হইয়াছিল, তাহা দ্বিতীয় এয়ুরোপিয়া মহাযুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের তুলনায় কিছুই কম ছিল না। এয়ুরোপিয়া মহাযুদ্ধের তুলনায় ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ — অন্যান্যে মধ্যে — নারী নির্যাতন সম্ভবত বেশিই হইয়াছিল। এয়ুরোপে যত নারীধর্ষণ হয়, তাহাকে ছাড়াইয়া গিয়াছিল বাংলাদেশে পাক বাহিনীর ধর্ষণ। জাতিগত অসুয়াই ইহার ভিত্তি।
বাংলাদেশের জন্য নহে, শুদ্ধ ভারতবর্ষ উপমহাদেশের জন্যও নহে, পৃথিবীর মানবসমাজের জন্যও ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীকে বিচারের মুখামুখি করা দরকার ছিল। পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীরা ছাড়া পাইয়া গিয়াছে বলিয়া বাংলাদেশে তাঁহাদের সহযোগীদেরও ছাড়িয়া দিতে হইবে এমন সিদ্ধান্ত যুক্তিসহ হইতে পারে না। সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের পূর্ণ নাগরিক বলিয়া স্বীকৃতি দেওয়ার যে অশুভ নজির স্থাপিত হইয়াছে তাহার নিরাকরণ করা দরকার।
শেষে আমরা এই প্রশ্নই তুলিতে চাই — যুদ্ধাপরাধবিরোধী আন্দোলন কেন জাতীয় আন্দোলন হইবে না? কেন তাহাকে কেবল তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন বলিয়া একঘরে করিতে হইবে? যদি পারি এই আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক করিয়াও তুলিতে হইবে।(১ম পৃষ্ঠার পর)
তো তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি করিবার পরামর্শ পর্যন্ত দিতেছেন। কিন্তু শাহবাগের তরুণ আন্দোলন এখনো যুদ্ধাপরাধ বিচার ও তাহার সংশ্লিষ্ট দাবিতেই অটল।
অন্যদিকে শেখ হাসিনার সরকার আন্দোলনকারীদের সহিত সামান্য একমত হইয়াছেন। কিছু আইন পরিবর্তনও করিতেছেন। এমতাবস্থায় কেহ কেহ প্রশ্ন করিতেছেন: এখন আন্দোলন কোন পথে যাইবে? সরকার কি এখন আন্দোলনকারীদের ঘরে ফিরিয়া যাইতে বলিবেন? না আন্দোলন ভিন্ন দাবিও তুলিবে? একদিন সিদ্ধান্ত হইয়াছিল আন্দোলনের সমাবেশ দৈনিক তিনটা-দশটার মধ্যে আবদ্ধ থাকিবে। কিন্তু ঘটনা ঘটিয়াই চলিয়াছে। সিদ্ধান্ত বদলাইয়াছে।
এখন পর্যন্ত যাহা দেখা যাইতেছে তাহাতে মনে হয় আন্দোলনে যাঁহারা আসিতেছেন তাঁহারা বিপুল সংখ্যায় শহরের মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির ছাত্র যুবক ও পেশাদার তরুণ। ইহাতে গতি সঞ্চার করিতে হইলে অবশ্যই আরো বড় বড় সংখ্যায় দেশের সাধারণ মানুষকে জাগাইতে হইবে। অথচ আজ পর্যন্ত শহরের শ্রমিকশ্রেণিও এই আন্দোলনে বড় সংখ্যায় শামিল হয় নাই। ১৯৬৯ সালের নাহান গ্রামে গ্রামে কৃষক ও ক্ষেতমজুর শ্রেণির জনগণ জাগিয়া উঠে নাই। কেন জাগে নাই সেই প্রশ্ন না তুলিয়াও রেহাই পাওয়া যাইবে না।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করিয়া একটা ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক’ ঐকমত্য গড়িয়া উঠিবার লক্ষণ দেখা দিয়াছে। এই লক্ষণ প্রজাতন্ত্র বা গণতন্ত্রের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান না ঘটিলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যে ‘মহাসিন্ধুর কল্লোল’ শুনাইয়াছিল তাহা কি শুনা যাইত? মনে রাখিতে হইবে জাতীয় গণতান্ত্রিক ঐকমত্য ছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা কঠিন।
শ্রমিকশ্রেণির জনগণ কেন এই আন্দোলনে শামিল হইবেন? দুই কারণে হইবেন। একটা কারণকে ‘জাতীয়’ বলা যাইতে পারে। অপরটাকে বলা যায় ‘গণতান্ত্রিক’ বা ‘প্রজাতান্ত্রিক’। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশে নতুন জাতি গঠনের সম্ভাবনা তুলিয়া ধরিয়াছিল। নানান কারণে ১৯৭১ বাংলাদেশে ‘গণতান্ত্রিক বিপ্লব’কে সম্ভব করিয়া তুলিতে সক্ষম হয় নাই। সেই কাজ, সেই কর্তব্য আজও জারি আছে।
এই বছরের আন্দোলনের ‘ফাঁসি চাই’ চিৎকারের মধ্যে সেই ‘অসমাপ্ত’ অথবা ‘বেহাত’ জাতীয় বিপ্লবের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষাই মূর্তি পাইয়াছে। কিন্তু ‘ফাঁসি চাই’ বলিলেই ফাঁসি হইবে না। আরো গলা খাকারি দিয়া কেহ কেহ বলিয়াছেন — যেমন আমার বন্ধু সেলিম রেজা নিউটন — ফাঁসিটাসি হইয়া গেলেও জনগণ দেখিবেন তাঁহাদেরই গলায় ফাঁস আটকাইয়াছে।
তাহা হইলে আমরা কি করিব? ইতিমধ্যেই দাবি উঠিয়াছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালকে স্থায়ী করিতে হইবে। তরুণেরা নিশ্চয় জানেন ১৯৪৫ সালের পর এয়ুরোপ ও জাপানে সংগঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালকে স্থায়ী রূপ দিবার একটা দাবি কিন্তু উঠিয়াছিল। পাশ্চাত্য জগৎ বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাহা সমর্থন করে নাই। তখন তাঁহারাই নতুন নতুন যুদ্ধাপরাধের সহিত জড়িত হইতেছিলেন। ভিয়েতনাম ও লাওস তাহার নিকৃষ্টতম উদাহরণ ছিল । সেই অপরাধ কি এখনো শেষ হইয়াছে? ইরাক বা আফগানিস্তান এখনো যুদ্ধে লিপ্ত।
আশা করি আমাদের তরুণেরা এই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ বিষয়েও উক্তি করিবেন। হইয়া উঠিবেন শুদ্ধ জাতীয় কেন. সত্যকার অর্থে আন্তর্জাতিক ‘ব্যক্তি’। না হইয়া উপায় নাই।

১৯৬৭ সালে মহাত্মা জাঁ পল সার্ত্র ও বার্ট্রান্ড রাসেল প্রমুখ মনীষী যখন ভিয়েতনামে মার্কিন যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে বিশেষ ‘ট্রাইবুনাল’ গঠন করিলেন তখন তাঁহাদের প্রতীকী বিচারসভা বসাইবার অনুমতি পর্যন্ত দেয় নাই তদানীন্তন ফরাশি সরকার। কারণের মধ্যে খোদ ফরাশিদেশের যুদ্ধাপরাধও কম ছিল না। তাঁহারা কি করিয়া বিচারে সম্মতি দিবেন? অবশেষে বিচারসভা বসিয়াছিল সুইডেনের রাজধানী স্টকহোল্ম নগরে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যে যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত হইয়াছিল, তাহা দ্বিতীয় এয়ুরোপিয়া মহাযুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের তুলনায় কিছুই কম ছিল না। এয়ুরোপিয়া মহাযুদ্ধের তুলনায় ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ — অন্যান্যে মধ্যে — নারী নির্যাতন সম্ভবত বেশিই হইয়াছিল। এয়ুরোপে যত নারীধর্ষণ হয়, তাহাকে ছাড়াইয়া গিয়াছিল বাংলাদেশে পাক বাহিনীর ধর্ষণ। জাতিগত অসুয়াই ইহার ভিত্তি।
বাংলাদেশের জন্য নহে, শুদ্ধ ভারতবর্ষ উপমহাদেশের জন্যও নহে, পৃথিবীর মানবসমাজের জন্যও ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীকে বিচারের মুখামুখি করা দরকার ছিল। পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীরা ছাড়া পাইয়া গিয়াছে বলিয়া বাংলাদেশে তাঁহাদের সহযোগীদেরও ছাড়িয়া দিতে হইবে এমন সিদ্ধান্ত যুক্তিসহ হইতে পারে না। সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের পূর্ণ নাগরিক বলিয়া স্বীকৃতি দেওয়ার যে অশুভ নজির স্থাপিত হইয়াছে তাহার নিরাকরণ করা দরকার।
শেষে আমরা এই প্রশ্নই তুলিতে চাই — যুদ্ধাপরাধবিরোধী আন্দোলন কেন জাতীয় আন্দোলন হইবে না? কেন তাহাকে কেবল তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন বলিয়া একঘরে করিতে হইবে? যদি পারি এই আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক করিয়াও তুলিতে হইবে।

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, সর্বজন, বুলেটিন ৯

Leave a Reply